প্রতিশোধ নিতে ইরানের পাশে দাঁড়াল যেসব পরাশক্তি

 খামেনির মৃত্যুতে রণংদেহী ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’: ইরানের পাশে দাঁড়াল যেসব শক্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ এক নজিরবিহীন অস্থিরতার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের প্রভাবশালী সহযোগী সংগঠনগুলো তেহরানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় তারা একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। ইরানের নেতৃত্বে থাকা এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কটি আন্তর্জাতিক মহলে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষ নামে পরিচিত।



লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রস্তুতি


লেবাননভিত্তিক প্রভাবশালী সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খামেনির অনুপস্থিতিতে হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন অনেক বেশি নিবিড়ভাবে কাজ করছে।


ফিলিস্তিনের হামাসের উদ্বেগ

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই ঘটনাকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি গুরুতর ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। হামাস মনে করে, খামেনির মৃত্যু ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপটেও একটি বড় ঘটনা।


ইয়েমেনের হুথিদের কড়া বার্তা


ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের নেতারা ইরানের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো ধরনের বড় ভূমিকা রাখতে পিছুপা হবে না।


ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের সতর্কবার্তা

ইরাকে সক্রিয় প্রভাবশালী শিয়া সংগঠনগুলো, বিশেষ করে কাতায়িব হিজবুল্লাহ, এই পরিস্থিতি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ ও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই গোষ্ঠীগুলো ইরানের ঘনিষ্ঠ প্রক্সি হিসেবে কাজ করে আসছে।


ইরানের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা


খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্বের দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তি:


১. মোজতবা খামেনি (প্রয়াত খামেনির পুত্র)।


২. আলি লারিজানি (দেশটির শীর্ষস্থানীয় ও ঝানু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব)।


তবে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কার হাতে ন্যস্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পরিষ্কার নয়। এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে