আজদার:হরমুজ প্রনালীতে মার্কিন নৌ বাহিনীর দুঃস্বপ্ন

আজদার:হরমুজ প্রনালীতে মার্কিন নৌ বাহিনীর দুঃস্বপ্ন

 


পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যখন বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই ইরানের হাতে আসা এক নতুন প্রযুক্তির খবরে ঘুম হারাম হয়ে গেছে পেন্টাগনের। লিথিয়াম ব্যাটারি এবং  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চালিত আন্ডারওয়াটার ড্রোন ‘আজদার’ এখন বৈশ্বিক নৌ-যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। পশ্চিমাদের কাছ থেকে এতোদিন এই ড্রোনটির কথা লুকিয়ে রেখেছিলো ইরান।

‎ইরানের এই চালকহীন ডুবোযান বা আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকল কেবল একটি অস্ত্র নয়, বরং এটি একটি নিঃশব্দ ঘাতক। এর বিশেষত্বগুলো হলো- প্রচলিত ইঞ্জিনের মতো শব্দ বা কম্পন না থাকায় লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত আজদার পানির নিচে প্রায় নিঃশব্দে চলাচল করতে পারে। অগভীর পানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের শব্দের ভিড়ে একে শনাক্ত করা বর্তমান সোনার (Sonar) প্রযুক্তির জন্য প্রায় অসম্ভব।

‎এই ড্রোনটি টানা চার দিন পানির নিচে টহল দিতে সক্ষম এবং এর গতিবেগ ১৮ থেকে ২৫ নট। একবার চার্জে এটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। বিশাল পাল্লার রেঞ্জ থাকায় এটি পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান সাগর পর্যন্ত নিঃশব্দে টহল দিতে এবং লক্ষ্যবস্তুকে ছায়া দিয়ে অনুসরণ করতে পারে।

‎হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। এই সংকীর্ণ পথে ইরানের ‘আজদার’ ড্রোন মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর বড় রণতরীগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ংকর সব হুমকি ধামকি দিলেও এখনও হরমুজের কাছে যায়নি পেন্টাগন।

‎একটি বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তুলনায় আজদার ড্রোনের খরচ নগণ্য। কিন্তু এই সস্তা ড্রোনই কয়েকশ কোটি ডলারের রণতরীকে ডুবিয়ে দেয়ার বা অচল করার ক্ষমতা রাখে। হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক গঠন এমন যে বড় জাহাজগুলোর নড়াচড়ার সুযোগ কম থাকে। এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে ইরান। পানির নিচ থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দিতে পারে তারা।

‎আজদার ড্রোনের সব থেকে ভয়ঙ্কর দিকটি হলো এর স্বয়ংক্রিয় স্বনির্ভরতা। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোনো মানুষের কমান্ড ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আক্রমণ করতে পারে। ইরান যদি একসাথে অনেকগুলো আজদার ড্রোন মোতায়েন করে, তবে তারা একটি ‘ঝাঁক’ বা সোয়ার্ম হিসেবে কাজ করবে।

‎এর ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসাথে এতগুলো লক্ষ্যবস্তুকে সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারে। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে যদি রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, তবুও এই ড্রোনগুলো নিজেদের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে।

‎বিশ্বকে অবাক করে হরমুজে সচল তেহরানের তেলের চাকাবিশ্বকে অবাক করে হরমুজে সচল তেহরানের তেলের চাকা

‎ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) যদি এই আজদার ড্রোন পূর্ণশক্তিতে মোতায়েন করে, তবে সমুদ্রের ওপর যে প্রথাগত রাজত্ব আমেরিকার ছিল, তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। পেন্টাগনের জন্য এটি এখন একটি বড় মাথাব্যথা, কীভাবে তারা এই ‘নিঃশব্দ ঘাতক’কে শনাক্ত করবে এবং মোকাবিলা করবে। আজদার ড্রোন কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি সমুদ্রের তলদেশে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে