ইরানের বিরুদ্ধে এবার একজোট ২২ দেশ


হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ২২টি দেশ। ফাইল ছবি

২২ দিনে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত। প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 


বিজ্ঞাপন

তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে দেশটি। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটও তৈরি করে ফেলেছে তারা।


এ অবস্থায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ২২টি দেশ। জলপথটিতে ইরানি অবরোধের নিন্দা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশগুলো।


বিজ্ঞাপন

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনও শামিল হয়েছে এই উদ্যোগে। তবে, জোটের বেশিরভাগ দেশই ইউরোপের।


শনিবার (২১ মার্চ) ২২টি দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের


বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন


ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন পুতিন

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত। যেসব দেশ এরই মধ্যে এই পরিকল্পনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে, আমরা তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’


বিবৃতিতে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনার মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানায়। তারা অভিযোগ করে যে, ইরানি বাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক অবরোধে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


আরও পড়ুন


ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিলো ইসরায়েল

এদিকে ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।


শনিবার (২১ মার্চ) সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরান সরকারের অবকাঠামোর ওপর যে হামলা চালাচ্ছে, এ সপ্তাহে, এটি বেশ বাড়বে।


এছাড়া যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গালফ অঞ্চলে নিশ্চিত না হবে, ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী শক্তিশালী। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বাহিনীও শক্তিশালী। যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।


আরও পড়ুন


ইরানে ভয়ংকর আঘাতের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, স্থল হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি

ইরানে আরও ভয়ংকর আঘাত হানার পরিকল্পনা আঁটছে যুক্তরাষ্ট্রও; ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থল হামলা চালানোর। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে ইতোমধ্যে। এছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনাকে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা এক সপ্তাহের মধ্যেই অঞ্চলটিতে পৌঁছে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা দিতে অনুরোধ করেছেন। 


তবে, ইরানে সেনা পাঠানো হবে কি না সে ব্যাপারে আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে গেলে তিনি স্থল হামলার নির্দেশ দেবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।


গত মঙ্গলবার অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে কোনো স্থল সেনা পাঠাবেন না। তবে সঙ্গে সঙ্গে এক সাংবাদিককে আবার বলেন, যদি আমি সেনা পাঠাইও, তাহলে আপনাদের (এখন) বলব না।


স্থল হামলার প্রস্তুতির ব্যাপারে সিবিএস নিউজ হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, এ ধরনের সামরিক পরিকল্পনা করা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ। যেন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কাছে একাধিক ‘অপশন’ থাকে। কিন্তু পরিকল্পনা করার মানে এই না যে ইরানে স্থল হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


এ পরিকল্পনা এতটাই বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে যে স্থল হামলা হলে যদি ইরানের সেনা ও প্যারামিলিটারির সদস্যদের আটক করা হয়, তাদের কীভাবে কী করা হবে সে ব্যাপারেও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি তাদের কোথায় পাঠানো হবে, সেটিও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে