কয়েক টি দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান
কয়েক টি দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। তবে যারা পশ্চিমা জোটের অংশ নয়, এমন দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথ খোলা রাখা হয়েছে।
আইআরজিসির বক্তব্য
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হায়দারি ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজের ওপর এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারে বাধার মুখে পড়বে।
হরমুজ প্রণালীর বৈশ্বিক গুরুত্ব
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালীটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানির প্রবেশদ্বার বলে অভিহিত করেন।
সংঘাত ও অস্থিরতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যেখানে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান
আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হায়দারির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যেসব দেশ সরাসরি এই পশ্চিমা জোটের অংশ নয়, তাদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খোলা রাখা হয়েছে।
যেহেতু বাংলাদেশ এই সংঘাতে কোনো পক্ষ নেয়নি এবং নির্দিষ্ট তালিকায় বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাই আন্তর্জাতিক আইন ও বর্তমান ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের পতাকাবাহী বা বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তবে ওই অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থাকায় আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাগুলো সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় বা নির্দিষ্ট দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের উল্লম্ফন ঘটতে পারে।

Comments
Post a Comment