স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা: সুস্থ থাকতে যা জানা জরুরি

 


​স্ট্রোক বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে বা রক্তনালী ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। এটি তৎক্ষণাৎ ঘটে গেলেও অনেক সময় শরীর বেশ কিছু দিন আগে থেকেই আমাদের বিভিন্ন সংকেত বা ইঙ্গিত দিতে থাকে। সময়মতো এই সংকেতগুলো চিনতে পারলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিশ্চিত মৃত্যু বা পক্ষাঘাত (Paralysis) থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

​স্ট্রোকের আগাম ৬টি প্রধান ইঙ্গিত

​ছবিতে উল্লিখিত সেই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যা স্ট্রোকের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই দেখা দিতে পারে, সেগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১. তীব্র মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া স্ট্রোকের একটি বড় লক্ষণ। বিশেষ করে যদি এই ব্যথার সাথে মাথা ঝিমঝিম করে বা ভারসাম্য রাখতে কষ্ট হয়, তবে এটি অবহেলা করা উচিত নয়।

​২. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন: হঠাৎ করে চোখের সামনে ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিসকে দুটি দেখা (Double Vision) স্ট্রোকের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় এক চোখের দৃষ্টিশক্তি সাময়িকভাবে চলেও যেতে পারে।

​৩. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবশতা: শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল বা অবশ বোধ করা। যেমন—হাত বা পা নাড়াতে সমস্যা হওয়া অথবা হাতের তালুতে ঝিঁঝিঁ ধরার মতো অনুভূতি হওয়া। এটি মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার একটি স্পষ্ট সংকেত।

​৪. কথা বলতে সমস্যা হওয়া: স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ। অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া বা অসংলগ্ন কথা বলাও বিপদের লক্ষণ হতে পারে।

​৫. চেহারার অস্বাভাবিকতা: আয়নায় হাসার চেষ্টা করলে যদি দেখা যায় মুখের একপাশ ঝুলে গেছে বা বেঁকে যাচ্ছে, তবে বুঝতে হবে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ। একে সাধারণত 'ফেসিয়াল ড্রুপিং' বলা হয়।

​৬. চরম ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট: কোনো পরিশ্রম ছাড়াই সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা এবং হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। যদি হৃদস্পন্দনের গতি অস্বাভাবিক হয়, তবে তা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

​কেন এই লক্ষণগুলো আগে দেখা দেয়?

​চিকিৎসকদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকের আগে অনেক সময় 'মিনি স্ট্রোক' বা TIA (Transient Ischemic Attack) হয়। এটি মূলত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িক বাধার সৃষ্টি করে। এর স্থায়িত্ব খুব কম সময়ের জন্য হলেও এটি আসলে একটি বড় সংকেত যে খুব শীঘ্রই বড় কোনো স্ট্রোক হতে পারে।

​স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

​শুধুমাত্র লক্ষণগুলো জানলেই হবে না, বরং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনা যায়:

​রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণ। তাই নিয়মিত প্রেশার মাপুন এবং নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

​ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল: রক্তে শর্করার মাত্রা এবং অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

​সুষম খাদ্য: অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

​ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ কমিয়ে দেয়।

​ধূমপান বর্জন: ধূমপান ও অ্যালকোহল মস্তিষ্কের রক্তনালীর ক্ষতি করে, তাই এগুলো সম্পূর্ণ ত্যাগ করা উচিত।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে