এই মাত্র পাওয়া:এলপি গ্যাসের নতুন দাম যত নির্ধারিত
বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের বাজার ও নতুন দাম নির্ধারণের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে বর্তমানে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট এবং নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন এলপিজি সিলিন্ডার। স্ক্রিনশটের ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, এলপিজি গ্যাসের দাম আবারও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই দাম ঘোষণা করে।
১. দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া
এলপিজি গ্যাসের দাম মূলত নির্ধারিত হয় সৌদি আরামকো কোম্পানির সিপি (Contract Price) বা প্রোপেন ও বিউটেনের দামের ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু বাংলাদেশ চাহিদাগুণের একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়, তাই বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমলে বাংলাদেশেও সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যায়। বিইআরসি প্রতি মাসে গণশুনানি বা পর্যালোচনার মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি বা অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দাম নির্দিষ্ট করে দেয়।
২. ঘনঘন দাম পরিবর্তনের কারণ (জনমনে অসন্তোষ)
স্ক্রিনশটে জনৈক নুসরত জাহান নবীনের কমেন্টটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ এই ঘনঘন দাম পরিবর্তনের ফলে কতটা বিরক্ত। তিনি বিদ্রুপ করে লিখেছেন, "গ্যাসের দাম ২ দিন পর পর কমে আর বাড়ে। কারণ কি? গ্যাসের কি উন্নত মানের খাবার দিয়ে হয়?"
এই ক্ষোভের যৌক্তিক কারণ আছে। ভোক্তারা চান স্থায়িত্ব। যখন প্রতি মাসেই দাম কয়েক দফায় বাড়ে বা কমে, তখন গৃহস্থালি বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য এটি বড় একটি বোঝা।
৩. খুচরা বাজারে অব্যবস্থাপনা
সরকার বা বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না। ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা প্রায়ই অজুহাত দেখান যে তারা বেশি দামে কিনেছেন। এর ফলে সাধারণ গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০০-২০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়। এই তদারকির অভাবই সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
৪. বিকল্প ও ভবিষ্যৎ
গ্যাসের দামের এই অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে মানুষ এখন ইলেকট্রিক ইন্ডাকশন ওভেন বা রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছে। তবে বিদ্যুতের দামও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সেটিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে না। এলপিজি সেক্টরে স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং আমদানিকারকদের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
৫. জনজীবনে প্রভাব
গ্যাসের দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে রেস্টুরেন্টের খাবারের দাম এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়। একটি সাধারণ পরিবারের মাসে ১টি বা ২ট সিলিন্ডার লাগে। দামের এই ওঠানামা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে।
.jpeg)
Comments
Post a Comment