একজন মানুষ না ঘুমিয়ে সর্বোচ্চ কতক্ষণ থাকতে পারে? বিজ্ঞান কী বলে?

 

একজন মানুষ না ঘুমিয়ে সর্বোচ্চ কতক্ষণ থাকতে পারে? বিজ্ঞান কী বলে?ঘুম মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। আমরা খাওয়া-দাওয়া ছাড়া যেমন বেশিদিন বাঁচতে পারি না, তেমনি ঘুম ছাড়াও শরীর ও মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—একজন মানুষ সর্বোচ্চ কতক্ষণ না ঘুমিয়ে থাকতে পারে? বিজ্ঞান এ বিষয়ে কী বলে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে থাকার রেকর্ডটি হলো প্রায় ১১ দিন বা ২৬৪ ঘণ্টা। এই রেকর্ডটি তৈরি করেছিলেন একজন তরুণ ছাত্র, গবেষণার উদ্দেশ্যে। তবে এটি ছিল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এতদিন না ঘুমিয়ে থাকা নিরাপদ বা স্বাভাবিক।

ঘুম না হলে প্রথম যে সমস্যাগুলো দেখা দেয় তা হলো মনোযোগের ঘাটতি, মাথা ঝিমুনি, চোখ ভারী লাগা, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। সাধারণত ২৪ ঘণ্টা না ঘুমালে মানুষের প্রতিক্রিয়া সময় কমে যায়, অনেকটা মদ্যপ অবস্থার মতো আচরণ দেখা যায়।

৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ঘুম না হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। তখন মানুষ হ্যালুসিনেশন অর্থাৎ এমন কিছু দেখা বা শোনা শুরু করতে পারে যা বাস্তবে নেই। চিন্তাভাবনা এলোমেলো হয়ে যায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানসিক চাপ বেড়ে যায়।

এরপর যদি আরও বেশি সময় ঘুম না হয়, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়ে, রক্তচাপ অস্বাভাবিক হতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থেকে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ এবং স্মৃতিভ্রংশের মতো মানসিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, “আমি কম ঘুমালেও সমস্যা হয় না।” বাস্তবে শরীর তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য মাইক্রো-স্লিপে চলে যায়, অর্থাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে। এটি খুবই বিপজ্জনক, বিশেষ করে গাড়ি চালানোর সময় বা ভারী যন্ত্রপাতির কাজের ক্ষেত্রে।

গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, মানুষ ঘুম ছাড়া সরাসরি মারা না গেলেও ঘুমের অভাবে যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ে, যা ধীরে ধীরে মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ও তরুণদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা আরও বেশি হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পড়াশোনা, কাজের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সবশেষে বলা যায়, মানুষ হয়তো কয়েকদিন না ঘুমিয়ে বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু সেটি মোটেও স্বাভাবিক বা নিরাপদ নয়। ঘুম শরীরের জন্য ঠিক ততটাই জরুরি যতটা খাবার ও পানি। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে ঘুমকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে