সঙ্গীতাঙ্গন স্তব্ধ, চলচ্চিত্রে আর গাইবেন না অরিজিৎ সিং


প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৫ পিএমআপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক বা চলচ্চিত্রের গান গাওয়া থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।



মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল ‘Atmojoarjalojo’ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের।


সবার অগোচরে নিভৃতে থাকা এই শিল্পী ওই পোস্টে অত্যন্ত বিনম্র ভাষায় তার বিদায়বার্তা প্রকাশ করেন।


অরিজিৎ জানিয়েছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের এই সফর ‘অসাধারণ’ ছিলো, তবে এখন তিনি একজন ‘ক্ষুদ্র শিল্পী’ হিসেবে নতুন কিছু শিখতে চান এবং নিজের মর্জিতে সঙ্গীতচর্চা করতে চান।


তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সঙ্গীত জগত থেকে তিনি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। প্লেব্যাক বন্ধ করলেও স্বতন্ত্র সঙ্গীত এবং কম্পোজিশনের কাজ চালিয়ে যাবেন।


বর্তমানে হাতে থাকা আগের চুক্তিবদ্ধ গানগুলোর কাজ তিনি শেষ করবেন। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের বেশ কিছু চলচ্চিত্রে এখনও তার কণ্ঠ শোনা যাবে, জানান তিনি।


 


‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অরিজিৎ সিংয়ের এই ঘোষণাটি অনেকটা বিরাট কোহলির টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার মতোই আকস্মিক। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আবেগ প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, ‘বলিউডের একটি যুগের অবসান ঘটলো।’


২০২৫ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত শিল্পী হিসেবে তার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করা এই শিল্পী সম্ভবত এখন তার শৈল্পিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব মিউজিক লেবেলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।


বলিউড থেকে টলিউড, গানের রয়েছে সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য। মোহাম্মদ রাফি, কিশোর কুমার থেকে শুরু করে পুরুষ গায়কদের মধ্যে পরবর্তীতে কুমার শানু, উদিত নারায়ণসহ বহু শিল্পী নব্বইয়ের দশক থেকে মাত করে রাখতেন। ২০১৩ সালে আশিকি-২ ছবিতে জিৎ গাঙ্গুলী, মিঠুন ও অঙ্কিত তিওয়ারীর সুরে অরিজিৎ যে যাদু করেছিলেন এই রেশ থাকবে বহুদিন। তবে অরিজিৎ আর গাইবেন না, এই দুশ্চিন্তা যে চলচ্চিত্র পরিচালকদের ঘুম হারাম করবে, তা বলাই যায়।


 


এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক দিন চর্চা ছিলো- অরিজিৎ সিং কি কিংবদন্তি কিশোর কুমারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন? তবে সেই চর্চা এখানেই ক্ষান্ত হলো।


বিশ্লেষকদের মতে ভারতীয় সংগীত জগতের দুই ভিন্ন সময়ের দুই জাদুকর—কিশোর কুমার এবং অরিজিৎ সিং। একজন কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, অন্যজন জীবন্ত কিংবদন্তি হওয়ার পথে। তাদের গায়কী, প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা একেক জনের জন্য একেক উচ্চতার। 


কিশোর কুমার মূলত প্রথাগত কোনো ধ্রুপদী শিক্ষা ছাড়াই গানের জগতে এসেছিলেন। তার গলায় ছিল সহজাত চঞ্চলতা এবং আবেগ। মজার গান (যেমন: এক চতুর নার) থেকে শুরু করে বিরহের গান (চিংগারি কোই ভড়কে), সবখানেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার ‘ইওডলিং’ শৈলী ছিল অনন্য।


বিপরীতে অরিজিৎ একজন উচ্চশিক্ষিত ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী। তার গায়কীতে বিষণ্ণতা এবং আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ থাকে। ‘অরিজিৎ জঁরা’ বলতে এখন আমরা মূলত রোমান্টিক এবং স্যাড সং বুঝি, তবে ‘শয়তানি গালি’ বা ‘ঝুমরি তালাইয়া’-র মতো গানে তিনি নিজের বৈচিত্র্যও প্রমাণ করেছেন।


Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে