4 ডিগ্রিতে নামতে পারে যেসব এলাকার তাপমাত্রা,যেসব এলাকায় হতে পারে ৫ সৌতপ্রবাহ,
জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণত শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্তমানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচে এই আবহাওয়া পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
শৈত্যপ্রবাহ কী এবং কখন হয়?
আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো বিস্তৃত এলাকার তাপমাত্রা যদি ১০° সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, তখন তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৮° থেকে ১০° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে।
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৬° থেকে ৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৪° থেকে ৬° সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে।
যেসব এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নামতে পারে
মূলত হিমালয়ের পাদদেশীয় সমভূমি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সংলগ্ন জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে তাপমাত্রা নামার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে নিচের এলাকাগুলোতে:
১. পঞ্চগড় জেলা: বিশেষ করে তেঁতুলিয়া। এটি দেশের সবচেয়ে উত্তরের এলাকা হওয়ায় এখানে হিমালয়ের হিমেল বাতাস সরাসরি প্রবেশ করে।
২. কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী: ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী অববাহিকার এই জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র বাতাস তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়।
৩. দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও: এই এলাকাগুলো শীতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রিতে নেমে আসা অস্বাভাবিক নয়।
৫টি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা
আবহাওয়া পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, দেশের অন্তত ৫টি প্রশাসনিক অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হানা দিতে পারে। অঞ্চলগুলো হলো:
রংপুর বিভাগ: এই বিভাগের প্রায় সব জেলাতেই হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হবে।
রাজশাহী বিভাগ: বিশেষ করে পাবনা, নওগাঁ এবং রাজশাহী শহরে বাতাসের আর্দ্রতা ও নিম্নচাপের কারণে শীত বেশি অনুভূত হবে।
যশোর ও চুয়াডাঙ্গা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলাগুলো প্রায়ই শীতের মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে।
শ্রীমঙ্গল (সিলেট): পাহাড়ি এলাকা এবং চা বাগান বেষ্টিত হওয়ায় এখানে দ্রুত তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর: ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ অংশে এই পকেটগুলোতে মাঝে মাঝে তীব্র শীতের প্রভাব দেখা যায়।
জনজীবনে প্রভাব ও সতর্কতা
তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমে এলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং কৃষি খাতের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
কৃষি: বোরো ধানের বীজতলা এবং আলুর ক্ষেতে 'লেট ব্লাইট' বা পচন রোগ ধরতে পারে। কুয়াশা কাটাতে সালফার জাতীয় ওষুধ স্প্রে করা জরুরি।
স্বাস্থ্য: শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং কোল্ড ডায়রিয়া থেকে রক্ষায় বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
যোগাযোগ: ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল এবং হাইওয়েতে যানচলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে ফগ লাইট ব্যবহার ও গতি কমানো প্রয়োজন।
শীতের এই তীব্রতা সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কোনো বড় পরিবর্তন হলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
.jpeg)
.jpeg)
Comments
Post a Comment