যে ৫ টি খাবার খেলে,তিব্র শীতেও শরীল গরম থাকে,জেনে নিন

 


তীব্র শীতে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শীতের সময় বাইরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখে।

​নিচে এমন ৫টি খাবারের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো যা আপনাকে প্রচণ্ড শীতেও গরম রাখতে সাহায্য করবে:

​১. আদা (Ginger)

​আদা কেবল একটি মশলা নয়, এটি ভেষজ গুণসম্পন্ন এক মহৌষধি। আদায় থাকা জিনজারল এবং শোগাওল নামক উপাদান শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। যখন রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, তখন শরীর প্রাকৃতিকভাবেই উষ্ণ হতে শুরু করে।

​উপকারিতা: এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শীতকালীন সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করে।

​খাওয়ার নিয়ম: সকালে এক কাপ আদা চা বা গরম পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে পান করলে দীর্ঘক্ষণ শরীর গরম থাকে।

​২. মধু (Honey)

​মধু হলো শক্তির একটি প্রাকৃতিক উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। শীতের সকালে মধু খেলে তা শরীরের তাপ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে (Thermogenesis) ত্বরান্বিত করে।

​উপকারিতা: এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের কারণে গলা ব্যথা এবং খুশখুশে কাশি কমাতে সাহায্য করে।

​খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেলে সারাদিন শরীর সতেজ ও গরম থাকে।

​৩. বাদাম ও বীজ (Nuts and Seeds)

​চিনাবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম এবং তিল শীতের জন্য চমৎকার খাবার। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বি (Healthy Fats), প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে। বাদাম হজম হতে সময় বেশি লাগে, যার ফলে শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি উৎপন্ন হয় এবং শরীর গরম থাকে।

​উপকারিতা: বাদাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে।

​খাওয়ার নিয়ম: বিকেলের নাস্তায় এক মুঠো ভাজা বাদাম বা তিলের নাড়ু খেতে পারেন।

​৪. ঘি (Ghee)

​আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘি-কে শরীর উষ্ণ রাখার অন্যতম সেরা উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। ঘিতে থাকা মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড খুব সহজেই শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। এটি শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

​উপকারিতা: ঘি হাড়ের জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শীতকালীন হাড়ের ব্যথা কমায়।

​খাওয়ার নিয়ম: দুপুরের গরম ভাতে এক চামচ ঘি মিশিয়ে অথবা রান্নায় তেলের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে।

​৫. ডিম (Eggs)

​ডিমকে বলা হয় 'সুপারফুড'। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন থাকে যা শরীরের বিপাক হার বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হজম করার সময় শরীর বেশি তাপ উৎপন্ন করে, যাকে খাবারের 'থার্মিক ইফেক্ট' বলা হয়।

​উপকারিতা: ডিমে থাকা আয়রন এবং ক্যালসিয়াম শীতকালীন ক্লান্তি দূর করে শরীরে এনার্জি দেয়।

​খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন প্রাতঃরাশে একটি সিদ্ধ ডিম অথবা অমলেট আপনার শরীরকে সারাদিন উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।

​কিছু জরুরি পরামর্শ:

​শীতকালে শরীর গরম রাখতে খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। পানিশূন্যতা থাকলে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এছাড়া নিয়মিত গরম স্যুপ বা ডাল খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

​শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে এই খাবারগুলো আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে যুক্ত করুন। সুস্থ থাকুন, উষ্ণ থাকুন।

আরও পড়ুন

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

বী র্য-পাত বন্ধ রেখে রাতভর স হ-বাস করতে যা করবেন

ব্রেকিং >> রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা...

ল"জ্জা"স্থান মুখে নেওয়া কী জায়েজ ইসলাম কী বলে